বাংলাদেশের সকল বেসরকারি ব্যাংকের তালিকা – Bangladesh all private bank list – 2026

দেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড হলো এদেশের ব্যাংকিং খাত। দেশের অর্থনীতিকে টিকিয়ে রাখতে সারকারি ব্যাংকের পাশাপাশি বেসরকারি ব্যাংকগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। তবে অনেকেরই দেশের বেসরকারি ব্যাংকের তালিকা সম্পর্কে সঠিক ধারণা নেই। স্বাধীনতার পর থেকে ধীরে ধীরে গড়ে ওঠা এই ব্যাংকিং ব্যবস্থা আজ দেশের কোটি কোটি মানুষের আর্থিক লেনদেন, সঞ্চয়, বিনিয়োগ ও ঋণ সুবিধার প্রধান মাধ্যম হয়ে উঠেছে। বিশেষত, দ্রুতগতির সেবা, প্রযুক্তিনির্ভর ব্যাংকিং ও উদ্যোক্তাদের ঋণ সহায়তায় বেসরকারি ব্যাংকগুলো এগিয়ে রয়েছে।
যারা বেসরকারি ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট খুলতে চাচ্ছেন কিংবা সরকারি/বেসরকারি ব্যাংক চাকরির প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তাদের জন্য বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাত সম্পর্কে সঠিক ও হালনাগাদ তথ্য জানা অত্যন্ত জরুরি। তাই এই আর্টিকেলে আমরা বাংলাদেশের বেসরকারি ব্যাংকের সংখ্যা, পূর্ণাঙ্গ তালিকা ও সেরা ব্যাংকগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব। আশা করি, সকলের জন্য এটি নির্ভরযোগ্য রেফারেন্স হিসেবে কাজ করবে।
বেসরকারি ব্যাংক কী?
বেসরকারি ব্যাংক (Private Commercial Bank বা PCB) হলো এমন একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান যার মালিকানা, পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ সম্পূর্ণ বা প্রধানত ব্যক্তি বা বেসরকারি কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের হাতে থাকে। অর্থাৎ, এ ধরনের ব্যাংকে সরকারের কোনো মালিকানা বা নিয়ন্ত্রণ থাকে না কিংবা সীমিত পরিমাণে থাকে।
বেসরকারি ব্যাংকগুলো ‘বাংলাদেশ ব্যাংক আইন ১৯৭২’ এবং ‘ব্যাংক কোম্পানি আইন ১৯৯১’-এর আওতায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক অর্থাৎ, বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন ও নিয়ন্ত্রণের অধীনে পরিচালিত হয়। বেসরকারি ব্যাংক প্রতিষ্ঠার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের লাইসেন্স প্রয়োজন হয় এবং প্রতিটি ব্যাংকের ন্যূনতম মূলধন বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী রক্ষা করতে হয়।
বেসরকারি ব্যাংকের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো হলো-
- মুনাফাভিত্তিক পরিচালনা
- গ্রাহকসেবায় দক্ষতা
- আধুনিক প্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহার
- দ্রুত সেবা প্রদান
- শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তি
এছাড়া এসব ব্যাংক আমানত সংগ্রহ, ঋণ প্রদান, বৈদেশিক বাণিজ্য, রেমিট্যান্স সংগ্রহ, লেটার অব ক্রেডিট (LC) খোলা, ব্যাংক গ্যারান্টি প্রদান ইত্যাদি বাণিজ্যিক ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে।
বেসরকারি ব্যাংক কয়টি?
বাংলাদেশে বর্তমানে (২০২৬ সাল পর্যন্ত) মোট ৪৩টি বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এই ৪৩টি বেসরকারি ব্যাংককে সাধারণভাবে Private Commercial Bank বা PCB বলা হয়, যার মধ্যে ৩৩টি প্রথাগত বা কনভেনশনাল ব্যাংকিং কার্যক্রম এবং ১০টি ইসলামিক শরীয়াহভিত্তিক ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করে।
বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকসহ বাংলাদেশে মোট তালিকাভুক্ত ব্যাংকের সংখ্যা ৬৩টি।
- অ-তালিকাভুক্ত ব্যাংকের সংখ্যা ৫টি।
- রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংক – ৭টি
- রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বিশেষায়িত ব্যাংক – ৩টি
- বিদেশি ব্যাংক রয়েছে – ৯টি
- অ-তালিকাভুক্ত ব্যাংক – ৫টি
** উল্লেখ্য, ৫টি অ-তালিকাভূক্ত ব্যাংক বাদে দেশের সকল ব্যাংকই তালিকাভূক্ত ব্যাংক।
নিচে কাজের ধরণের ভিত্তিতে বেসরকারি ব্যাংকের সংখ্যা দেখানো হলো:
| ব্যাংকের ধরন | সংখ্যা |
| কনভেনশনাল বেসরকারি ব্যাংক | ৩৩টি |
| ইসলামিক বেসরকারি ব্যাংক | ১০টি |
| মোট বেসরকারি ব্যাংক | ৪৩টি |
বাংলাদেশের বেসরকারি ব্যাংকের তালিকা
বাংলাদেশে বেসরকারি ব্যাংকের যাত্রা শুরু হয়েছিল ১৯৮০-এর দশকে। ১৯৮৩ সালে দেশের প্রথম বেসরকারি ব্যাংক হিসেবে ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেড প্রতিষ্ঠিত হয়। এরপর থেকে ধীরে ধীরে আরও অনেক বেসরকারি ব্যাংক গড়ে উঠেছে এবং দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
নিচে বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যের ভিত্তিতে দেশের সকল বেসরকারি ব্যাংকের পূর্ণাঙ্গ তালিকা দেওয়া হলো।
কনভেনশনাল (Conventional) বেসরকারি ব্যাংক
কনভেনশনাল বা প্রচলিত ব্যাংকগুলো সুদভিত্তিক (Interest-based) ব্যাংকিং ব্যবস্থায় পরিচালিত হয়। বাংলাদেশে বর্তমানে ৩৩টি কনভেনশনাল বেসরকারি ব্যাংক রয়েছে। এই ব্যাংকগুলো গ্রাহকের আমানতের বিপরীতে নির্দিষ্ট সুদ প্রদান করে এবং ঋণগ্রহীতার কাছ থেকে নির্দিষ্ট সুদ আদায় করে।
নিচে সকল কনভেনশনাল বেসরকারি ব্যাংকের তালিকা দেওয়া হলো:
| ক্রমিক | ব্যাংকের নাম | প্রতিষ্ঠা সাল |
| ১ | ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেড | ১৯৮৩ |
| ২ | দি সিটি ব্যাংক লিমিটেড | ১৯৮৩ |
| ৩ | ইউসিবি ব্যাংক (United Commercial Bank) লিমিটেড | ১৯৮৩ |
| ৪ | এবি ব্যাংক লিমিটেড | ১৯৮২ |
| ৫ | আইএফআইসি ব্যাংক লিমিটেড | ১৯৭৬ |
| ৬ | ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেড (EBL) | ১৯৯২ |
| ৭ | ঢাকা ব্যাংক লিমিটেড | ১৯৯৫ |
| ৮ | ডাচ্-বাংলা ব্যাংক লিমিটেড | ১৯৯৬ |
| ৯ | ব্র্যাক ব্যাংক লিমিটেড | ২০০১ |
| ১০ | প্রাইম ব্যাংক লিমিটেড | ১৯৯৫ |
| ১১ | পূবালী ব্যাংক লিমিটেড | ১৯৫৯ |
| ১২ | উত্তরা ব্যাংক লিমিটেড | ১৯৬৫ |
| ১৩ | মার্কেন্টাইল ব্যাংক লিমিটেড | ১৯৯৯ |
| ১৪ | মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেড | ১৯৯৯ |
| ১৫ | সাউথইস্ট ব্যাংক লিমিটেড | ১৯৯৫ |
| ১৬ | ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেড | ১৯৯৯ |
| ১৭ | প্রিমিয়ার ব্যাংক লিমিটেড | ১৯৯৯ |
| ১৮ | ব্যাংক এশিয়া লিমিটেড | ১৯৯৯ |
| ১৯ | যমুনা ব্যাংক লিমিটেড | ২০০১ |
| ২০ | শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড (পূর্বে প্রচলিত) | ২০০১ |
| ২১ | এনআরবি ব্যাংক লিমিটেড | ২০১৩ |
| ২২ | এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেড | ২০১৩ |
| ২৩ | মেঘনা ব্যাংক লিমিটেড | ২০১৩ |
| ২৪ | মিডল্যান্ড ব্যাংক লিমিটেড | ২০১৩ |
| ২৫ | মধুমতি ব্যাংক লিমিটেড | ২০১৩ |
| ২৬ | ওয়ান ব্যাংক লিমিটেড | ১৯৯৯ |
| ২৭ | এসবিএসি ব্যাংক (South Bangla Agriculture & Commerce) | ২০১৩ |
| ২৮ | সিমান্তো ব্যাংক লিমিটেড | ২০১৬ |
| ২৯ | সিটিজেন ব্যাংক পিএলসি | ২০২২ |
| ৩০ | বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেড | ২০২১ |
| ৩১ | পদ্মা ব্যাংক লিমিটেড | ২০১৯ |
| ৩২ | বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক লিমিটেড | ১৯৯৮ |
| ৩৩ | কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড | ২০১৯ |
ইসলামিক (Islamic) বেসরকারি ব্যাংক
ইসলামিক ব্যাংকগুলো পবিত্র কোরআন ও সুন্নাহর ভিত্তিতে ইসলামি শরীয়াহ মোতাবেক পরিচালিত হয়। এই ব্যাংকগুলোতে সুদের পরিবর্তে মুদারাবা, মুশারাকা, মুরাবাহা, ইজারা প্রভৃতি ইসলামি পদ্ধতিতে বিনিয়োগ ও আমানত পরিচালিত হয়। বর্তমানে বাংলাদেশে ১০টি ইসলামিক শরীয়াহভিত্তিক বেসরকারি ব্যাংক রয়েছে। বাংলাদেশে ইসলামি ব্যাংকের আমানতের পরিমাণ মোট ব্যাংকিং খাতের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ।
| ক্রমিক | ব্যাংকের নাম | প্রতিষ্ঠা সাল |
| ১ | ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড | ১৯৮৩ |
| ২ | আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড | ১৯৯৫ |
| ৩ | সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড | ১৯৯৫ |
| ৪ | এক্সিম ব্যাংক লিমিটেড | ১৯৯৯ |
| ৫ | শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড | ২০০১ |
| ৬ | ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড | ১৯৯৯ |
| ৭ | ইউনিয়ন ব্যাংক লিমিটেড | ২০১৩ |
| ৮ | গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড | ২০১৩ |
| ৯ | স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক লিমিটেড | ১৯৯৯ |
| ১০ | আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক লিমিটেড | ১৯৮৭ |
ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড দেশের সর্বপ্রথম ইসলামি ব্যাংক এবং এটি ১৯৮৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। ব্যাংকটি বাংলাদেশের বৃহত্তম বেসরকারি ব্যাংক হিসেবেও বিবেচিত।
বাংলাদেশের সেরা ১০টি বেসরকারি ব্যাংক
বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতি বছর ব্যাংকগুলোর আর্থিক কার্যক্ষমতা, টেকসই উন্নয়ন, খেলাপি ঋণের হার, মূলধন পর্যাপ্ততা, তারল্য সক্ষমতা ইত্যাদি সূচকের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করে। বাংলাদেশ ব্যাংক কয়েক বছর ধরে ব্যাংকগুলোর “সাসটেইনেবল রেটিং” প্রকাশ করে আসছে। এই রেটিং পাঁচটি সূচকের ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়— টেকসই অর্থায়ন, সামাজিক দায়বদ্ধতা কার্যক্রম, পরিবেশবান্ধব প্রকল্পে অর্থায়ন, টেকসই কোর ব্যাংকিং সূচক ও ব্যাংকিং সেবার পরিধি।
নিচে বিভিন্ন মানদণ্ডের ভিত্তিতে দেশের সেরা ১০টি বেসরকারি ব্যাংকের তালিকা উপস্থাপন করা হলো:
১। ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসি
বাংলাদেশ ব্যাংকের টেকসই রেটিং তালিকায় টানা বছরের পর বছর শীর্ষে অবস্থানকারী ব্র্যাক ব্যাংক দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের (SME) ঋণ সহায়তায় বিশেষভাবে পরিচিত।
২। সিটি ব্যাংক পিএসসি
বাংলাদেশ ব্যাংকের টেকসই রেটিং তালিকায় টানা চার বছর স্থান পাওয়া সিটি ব্যাংক কর্পোরেট ব্যাংকিং, ক্রেডিট কার্ড সেবা এবং ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ে দেশের মধ্যে অগ্রণী।
৩। ডাচ্-বাংলা ব্যাংক পিএলসি (DBBL)
দেশে এটিএম বুথ নেটওয়ার্ক প্রসারে অগ্রণী ভূমিকা রাখা এই ব্যাংকটি প্রযুক্তিনির্ভর ব্যাংকিং সেবায় একটি মাইলফলক। বিশেষত “নেক্সাস পে” মোবাইল ব্যাংকিং সেবার মাধ্যমে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে।
৪। ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসি (EBL)
বণিক বার্তার ব্যাংক র্যাংকিংয়ে শীর্ষস্থান অধিকার করা ইস্টার্ন ব্যাংক কর্পোরেট ব্যাংকিং ও রিটেইল ব্যাংকিংয়ে বিশেষ সুনাম রাখে।
৫। যমুনা ব্যাংক পিএলসি
দেশের একটি দ্রুত বর্ধনশীল বেসরকারি ব্যাংক হিসেবে যমুনা ব্যাংক কর্পোরেট ও রিটেইল ব্যাংকিং সেবায় সমানভাবে দক্ষতা প্রদর্শন করছে। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর সেবা এবং গ্রাহকবান্ধব কার্যক্রমের মাধ্যমে ব্যাংকটি ধীরে ধীরে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে।
৬। মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি (MTB)
টেকসই রেটিং তালিকায় স্থান পাওয়া মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক গ্রাহকসেবা ও ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ে বিশেষ দক্ষতা প্রদর্শন করছে।
৭। এনসিসি ব্যাংক পিএলসি
দীর্ঘদিন ধরে নির্ভরযোগ্য ব্যাংকিং সেবা প্রদান করে আসা এনসিসি ব্যাংক কর্পোরেট ব্যাংকিং, এসএমই ফাইন্যান্স এবং বৈদেশিক বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। স্থিতিশীল কার্যক্রম ও গ্রাহকসেবার কারণে ব্যাংকটি দেশের ব্যাংকিং খাতে একটি সুপরিচিত নাম।
৮। প্রাইম ব্যাংক পিএলসি
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাসটেইনেবল রেটিং তালিকায় স্থান পাওয়া প্রাইম ব্যাংক দেশের বৈদেশিক বাণিজ্য ও কর্পোরেট ব্যাংকিংয়ে একটি নির্ভরযোগ্য নাম।
৯। পূবালী ব্যাংক পিএলসি
দেশের সবচেয়ে পুরনো বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মধ্যে অন্যতম এই ব্যাংকটি বিস্তৃত শাখা নেটওয়ার্ক এবং দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কারণে গ্রাহকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়।
১০। শাহজালাল ইসলামি ব্যাংক লিমিটেড পিএলসি
শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকিং সেবার জন্য পরিচিত শাহজালাল ইসলামি ব্যাংক গ্রাহকদের সুদমুক্ত আর্থিক লেনদেনের সুবিধা প্রদান করে। আমানত, বিনিয়োগ এবং রেমিট্যান্স সেবায় দক্ষতার পাশাপাশি আধুনিক ডিজিটাল ব্যাংকিং সুবিধার মাধ্যমেও ব্যাংকটি গ্রাহকদের আস্থা অর্জন করেছে।
বেসরকারি ব্যাংকের ভূমিকা
বাংলাদেশের বেসরকারি ব্যাংকিং খাত দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে আসছে। ৪৩টি বেসরকারি ব্যাংক দেশের কোটি কোটি মানুষের সঞ্চয় সংরক্ষণ, ঋণ সহায়তা, রেমিট্যান্স পরিচালনা এবং বৈদেশিক বাণিজ্য সহজীকরণে নিরলসভাবে কাজ করছে। কনভেনশনাল ও ইসলামিক উভয় ধারার ব্যাংকের সমন্বিত উপস্থিতি বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতকে বৈচিত্র্যময় ও আধুনিক করে তুলেছে।
প্রাইভেট ব্যাংক জব: তরুণদের জন্য স্মার্ট পছন্দ
বেসরকারি ব্যাংক খাতে কর্পোরেট জব আজকের তরুণদের কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয়—কারণ এখানে রয়েছে দ্রুত ক্যারিয়ার গ্রোথ, প্রতিযোগিতামূলক বেতন এবং প্রযুক্তিনির্ভর কর্মপরিবেশ। বিশেষ করে ফ্রেশ গ্র্যাজুয়েটদের জন্য স্কিল ডেভেলপমেন্ট ও প্রফেশনাল নেটওয়ার্ক গড়ার বড় সুযোগ তৈরি করে এই সেক্টর। তাই সঠিক দিকনির্দেশনা ও পরিকল্পিত প্রস্তুতি থাকলে এই খাতে সফল ক্যারিয়ার গড়া সম্ভব।
বহুল জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন ও উত্তর
শীর্ষ ১০ বেসরকারি ব্যাংক কোনটি?
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাসটেইনেবিলিটি রেটিং ২০২৪ অনুযায়ী, বেসরকারি খাতের শীর্ষস্থানীয় ব্যাংকগুলো হলো— ব্র্যাক ব্যাংক, দি সিটি ব্যাংক, ইস্টার্ন ব্যাংক (ইবিএল), ডাচ্-বাংলা ব্যাংক পিএলসি (DBBL) , যমুনা ব্যাংক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, এনসিসি ব্যাংক পিএলসি, প্রাইম ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক পিএলসি এবং শাহজালাল ইসলামি ব্যাংক লিমিটেড পিএলসি ।
বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বেসরকারি ব্যাংক কোনটি?
মোট সম্পদ, আমানত, ঋণ বিতরণ এবং শাখার সংখ্যার বিচারে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড দেশের সবচেয়ে বড় বেসরকারি ব্যাংক হিসেবে বিবেচিত।
বাংলাদেশে বেসরকারি ব্যাংক কয়টি?
বাংলাদেশে মোট বেসরকারি ব্যাংক আছে ৪৩টি, যার মধ্যে ৩৩টি প্রথাগত কনভেনশনাল এবং ১০টি ইসলামিক শরীয়াহভিত্তিক। পাশাপাশি বাংলাদেশে ৯টি বিদেশি ব্যাংক এবং ৩টি বিশেষায়িত ব্যাংক রয়েছে।
এই ব্লগে প্রাইভেট ব্যাংকের পূর্ণ তালিকা সম্পর্কে জানলেন। এবার যারা প্রাইভেট ব্যাংক জবে আগ্রহী, তারা আরও লক্ষ্যভিত্তিকভাবে প্রস্তুতি নিতে পারবেন।
🚀 Live MCQ™ অ্যাপের “প্রাইভেট ব্যাংক প্রস্তুতি” রুটিনে যুক্ত হয়ে আজই শুরু করুন স্মার্ট, স্ট্র্যাটেজিক প্রস্তুতি!
সরকারি, বেসরকারি ব্যাংকখাত বা যেকোনো চাকরির প্রস্তুতি সম্পর্কে কোন প্রশ্ন থাকলে তা কমেন্টের মাধ্যমে জানাতে পারেন।
আর্টিকেলটি পড়ার জন্য ধন্যবাদ!



