সরকারি চাকরিতে ৫.২ লাখ শূন্য পদ পূরণের উদ্যোগ | চাকরিপ্রত্যাশীদের জন্য সুখবর
প্রিয় চাকরিপ্রত্যাশীগণ, সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকাণ্ডে গতি আনতে প্রায় ৫ লাখ ২১ হাজার ৯২২টি শূন্য পদ দ্রুত পূরণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর, কর্তৃপক্ষ ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে শূন্য পদের তালিকা, অনুমোদিত অর্গানোগ্রাম এবং চলমান নিয়োগ কার্যক্রমের হালনাগাদ তথ্য জরুরি ভিত্তিতে চেয়ে পাঠিয়েছে।
সব সরকারি চাকরির বিজ্ঞপ্তির আপডেট পেতে আমাদের Job Circular সেকশন ফলো করুন।
মূল খবর সংক্ষেপে
গ্রেডভিত্তিক শূন্য পদের চিত্র
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী গ্রেডভিত্তিক শূন্য পদের সংখ্যা:
প্রতিষ্ঠানভেদে হিসাব করলে সবচেয়ে বেশি শূন্য পদ বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও অধিদপ্তরে, প্রায় ৩ লাখ ১ হাজার। স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান ও করপোরেশনে প্রায় ১ লাখ ৯৯ হাজার, বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে প্রায় ১৪ হাজার ৫৭৮টি এবং মন্ত্রণালয় ও বিভাগে ৬ হাজার ৮০৮টি পদ খালি আছে।
নিয়োগ পরীক্ষার নম্বর বণ্টনেও পরিবর্তন
শুধু শূন্য পদ পূরণ নয়, নিয়োগ পরীক্ষার পদ্ধতিতেও রদবদল আসছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের সরাসরি নিয়োগে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় সমান ৫০ নম্বর করে রাখার প্রস্তাব নিয়ে কাজ চলছে। উদ্দেশ্য হলো মুখস্থবিদ্যার বদলে প্রার্থীর বাস্তব দক্ষতা ও যোগ্যতা যাচাইয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া। পাশাপাশি বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনও (পিএসসি) বিসিএসসহ বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষার সিলেবাস ও মূল্যায়ন পদ্ধতি হালনাগাদ করার উদ্যোগ নিয়েছে।
এই উদ্যোগ কতটা বাস্তবসম্মত?
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ শ্রমশক্তি জরিপ অনুযায়ী দেশে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে বেকারের সংখ্যা ২৬ লাখের বেশি। এই বাস্তবতায় ৫ লাখের বেশি সরকারি পদ পূরণের উদ্যোগ বড় একটা সুযোগ হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো ফাহমিদা খাতুনের মতে, নিয়োগ প্রক্রিয়া যেন স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন হয় এবং যোগ্যতম প্রার্থীরাই নিয়োগ পান, সেটা নিশ্চিত করাটাই আসল চ্যালেঞ্জ। তিনি আরও বলেন, আর্থিক চাপ এড়াতে ধাপে ধাপে নিয়োগ সম্পন্ন করাই বাস্তবসম্মত পথ হতে পারে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর ৪ থেকে ৬ মাসের মধ্যে নিয়োগ সম্পন্ন করার মতো সময়সীমা বেঁধে দেওয়া এবং একই ধরনের পদে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সমন্বিত বা গুচ্ছ পরীক্ষার সুযোগ বাড়ানো গেলে চাকরিপ্রার্থীদের বারবার আবেদন ও পরীক্ষার খরচ ও সময়ের চাপ কমবে।
চাকরিপ্রত্যাশীদের জন্য এখন করণীয়
এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হতে সময় লাগলেও, আগামী কয়েক বছরে ৯ম থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত বিভিন্ন গ্রেডে নিয়মিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি আসার সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। তাই প্রস্তুতিটা এখন থেকেই ধারাবাহিক রাখা ভালো। ৯ম থেকে ১৩তম গ্রেডের পদের জন্য গ্রেড ৯ থেকে ১৩ চাকরির প্রস্তুতি রুটিন এবং ১৪তম থেকে ২০তম গ্রেডের পদের জন্য গ্রেড ১৪ থেকে ২০ চাকরির প্রস্তুতি রুটিন অনুসরণ করে গুছিয়ে এগোনো যায়। লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার নম্বর সমান হয়ে গেলে ভাইভার গুরুত্ব আরও বাড়বে, তাই আগে থেকেই ভাইভা প্রস্তুতি গাইডলাইনস ফলো করে প্রস্তুতি নিতে থাকুন। আর নিয়মিত অনুশীলনের জন্য Live MCQ™ অ্যাপের জব সলিউশন ফিচার এবং প্রয়োজন অনুযায়ী প্যাকেজগুলো সবসময় হাতের কাছেই আছে।
সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)
সরকারি চাকরিতে মোট কতটি পদ খালি আছে?
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের হিসাবে বর্তমানে প্রায় ৫ লাখ ২১ হাজার ৯২২টি পদ শূন্য রয়েছে।
এই শূন্য পদ পূরণে কত সময় লাগতে পারে?
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে ৩ থেকে ৪ বছর সময় লাগতে পারে।
নিয়োগ পরীক্ষায় কী পরিবর্তন আসছে?
১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের সরাসরি নিয়োগে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় সমান ৫০ নম্বর রাখার প্রস্তাব নিয়ে কাজ চলছে।
মন্তব্য
মন্তব্য লোড হচ্ছে…
মন্তব্য করতে লগইন করুন
এক ক্লিকে Google বা Facebook দিয়ে সাইন ইন করুন; মন্তব্য, পার্সোনাল রিপোর্ট ও সব ফিচার আনলক হবে।