সকল ব্লগ

BJS প্রিপারেশন গাইডলাইন: শূন্য থেকে প্রস্তুতি | BJS Preparation Guideline 2026

BJS প্রিপারেশন গাইডলাইন: শূন্য থেকে প্রস্তুতি | BJS Preparation Guideline 2026

এলএলবি শেষ করেছেন বা শেষ বর্ষে আছেন, স্বপ্ন সহকারী জজ হওয়া। কিন্তু টেবিলে বসলেই প্রশ্ন জাগে: কোন আইন আগে পড়ব, কতটুকু মুখস্থ করব, আর বাংলা-ইংরেজি-গণিতের জন্য সময় পাব কোথায়? এই দ্বিধাতেই অনেকের কয়েক মাস চলে যায়।

এই BJS প্রিপারেশন গাইডলাইন তাদের জন্য, যারা শূন্য থেকে BJS প্রস্তুতি শুরু করতে চান। বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস কমিশনের (BJSC) প্রকাশিত অফিসিয়াল সিলেবাস ধরে এখানে সাজানো হয়েছে পরীক্ষার কাঠামো, যোগ্যতা, প্রতিটি ধাপের মানবণ্টন, বিষয়ভিত্তিক পড়ার কৌশল, ৬ মাসের রুটিন এবং ভাইভা প্রস্তুতির দিকনির্দেশনা।

পুরো BJS Preparation Guideline একবার পড়ে নিলে আপনার প্রস্তুতি (bjs prostuti) কোথা থেকে শুরু হবে আর কোথায় গিয়ে শেষ হবে, তার পরিষ্কার একটি মানচিত্র হাতে পাবেন।

BJS পরীক্ষা কী এবং কেন এটি আলাদা

BJS (Bangladesh Judicial Service) পরীক্ষার মাধ্যমে বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিসের প্রবেশ পদ সহকারী জজ নিয়োগ দেওয়া হয়। পরীক্ষা নেয় বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস কমিশন, আর কমিশন সব পরীক্ষা ঢাকায় গ্রহণ করে।

অন্য চাকরির পরীক্ষার সঙ্গে BJS-এর বড় পার্থক্য হলো, এখানে আইনই মূল চালিকাশক্তি। প্রিলিমিনারির বড় অংশ আইন থেকে আসে, লিখিত পরীক্ষার ১০০০ নম্বরের মধ্যে ৬০০ নম্বর আইনের। তাই BJS প্রস্তুতির কৌশলও হতে হবে আইনকেন্দ্রিক, তবে সাধারণ বিষয়কে অবহেলা করে নয়।

BJS পরীক্ষায় আবেদনের যোগ্যতা ও বয়সসীমা

প্রস্তুতি শুরুর আগেই নিশ্চিত হয়ে নিন আপনি আবেদনের যোগ্য কি না। BJSC-এর বিস্তারিত সিলেবাস ও নির্দেশিকা অনুযায়ী:

  • শিক্ষাগত যোগ্যতা: স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে ৪ বছর মেয়াদি স্নাতক (সম্মান) অথবা আইনে স্নাতক; অথবা স্বীকৃত বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনে ৩ বছর মেয়াদি স্নাতকসহ স্নাতকোত্তর ডিগ্রি।
  • ফলাফলের শর্ত: আইনে স্নাতক বা স্নাতক (সম্মান), ক্ষেত্রমতে স্নাতকোত্তর স্তরে কমপক্ষে দ্বিতীয় শ্রেণি বা সমমানের সিজিপিএ থাকতে হবে।
  • সিজিপিএ রূপান্তর: বিশ্ববিদ্যালয়ের সিজিপিএ স্কেলকে ৮০% ধরে শতকরা নম্বরে রূপান্তর করা হয়। ৬০% বা তার বেশি প্রথম শ্রেণি, ৪৫% থেকে ৬০%-এর কম দ্বিতীয় শ্রেণি। যেমন: ৪.০০ স্কেলে ৩.০০ পেলে ৬০% (প্রথম শ্রেণি), ৫.০০ স্কেলে ৩.০০ পেলে ৪৮% (দ্বিতীয় শ্রেণি)।
  • পরীক্ষার্থী প্রার্থী: এলএলবি বা এলএলএম পরীক্ষা দিয়েছেন এমন প্রার্থীও আবেদন করতে পারবেন, যদি আবেদনের শেষ তারিখে বা তার আগে পরীক্ষা শেষ হয়। মৌখিক পরীক্ষার সময় কমপক্ষে দ্বিতীয় শ্রেণির প্রমাণ দেখাতে হবে।
  • বয়সসীমা: নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লিখিত তারিখে অনধিক ৩২ বছর। বয়স নির্ধারণ হবে এসএসসি বা সমমানের সনদ অনুযায়ী, এফিডেভিট গ্রহণযোগ্য নয়।
  • নাগরিকত্ব: প্রার্থীকে বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে। বাংলাদেশের নাগরিক নন এমন কাউকে বিয়ে করলে বা বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিলে প্রার্থী অযোগ্য বিবেচিত হবেন।
  • শারীরিক মান: পুরুষ প্রার্থীর উচ্চতা ও ওজন কমপক্ষে ১.৫২৪ মিটার ও ৪৫ কেজি, মহিলা প্রার্থীর ১.৪৭৩ মিটার ও ৪০ কেজি হতে হবে।

আবেদন হয় অনলাইনে (BJSC Form I) টেলিটক BJS আবেদন পোর্টালে, আর প্রিলিতে উত্তীর্ণ হলে BJSC Form II কাগজপত্রসহ কমিশনে জমা দিতে হয়। 

সর্বশেষ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির খবর জানতে পড়ুন BJSC Job Circular 2026।

একনজরে BJS পরীক্ষার কাঠামো ও মানবণ্টন

BJS পরীক্ষা তিনটি ধাপে হয়: প্রিলিমিনারি, লিখিত এবং মৌখিক। সফল প্রার্থীদের পরে স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও যাচাই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়।

ধাপ

নম্বর

সময় ও ধরন

পাস নম্বর

প্রিলিমিনারি

১০০

১ ঘণ্টা, ১০০টি MCQ

ন্যূনতম ৫০

লিখিত

১০০০

বিষয়প্রতি ৩ ঘণ্টা

গড়ে ৫০%, কোনো বিষয়ে ৩০%-এর কম নয়

মৌখিক (ভাইভা)

১০০

বোর্ডে সাক্ষাৎকার

৫০%-এর কম পেলে অকৃতকার্য

মনে রাখুন: প্রিলিমিনারির নম্বর লিখিত বা মৌখিক পরীক্ষার নম্বরের সঙ্গে যোগ হয় না। এটি কেবল লিখিত পরীক্ষায় বসার যোগ্যতা নির্ধারণ করে। চূড়ান্ত মেধাতালিকা তৈরি হয় লিখিত ও মৌখিকের নম্বর মিলিয়ে।

BJS প্রিলিমিনারি সিলেবাস ও নম্বর বণ্টন

BJS প্রিলিমিনারি সিলেবাস ও নম্বর বণ্টন.webp

প্রিলিতে মোট ১০০টি MCQ থাকে, প্রতিটির মান ১। প্রতিটি ভুল উত্তরের জন্য ০.২৫ নম্বর কাটা হয়, তাই অনুমাননির্ভর উত্তর বিপদ ডেকে আনতে পারে। প্রশ্ন আসে সাধারণ বাংলা, সাধারণ ইংরেজি, বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়, গণিত, দৈনন্দিন বিজ্ঞান, বুদ্ধিমত্তা এবং আইন বিষয় থেকে।

ক্রম

বিষয়

নম্বর

১

আইন

৬০

২

বাংলা

১০

৩

ইংরেজি

১০

৪

গণিত

৫

৫

সাধারণ বিজ্ঞান

৫

৬

সাধারণ জ্ঞান

১০

অর্থাৎ BJS প্রিলি প্রস্তুতির ৬০% সাফল্য নির্ভর করে আইনের ওপর। আইনের অংশে ভালো করলে বাকি ৪০ নম্বরে সাধারণ মানের প্রস্তুতি দিয়েও পাস নম্বর পার করা সম্ভব।

BJS লিখিত পরীক্ষার সিলেবাস ও মানবণ্টন

প্রিলিতে উত্তীর্ণ প্রার্থীরা মোট ১০০০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষায় বসেন। একটি বিষয়ে বাংলা বা ইংরেজি যেকোনো একটি ভাষায় উত্তর লেখা যায়, তবে একই বিষয়ে আংশিক বাংলা ও আংশিক ইংরেজি ব্যবহার করা যায় না।

প্রথম ভাগ: আবশ্যিক সাধারণ বিষয় (৪০০ নম্বর)

বিষয়

নম্বর

যা থাকে

সাধারণ বাংলা

১০০

রচনা ২০, ভাবসম্প্রসারণ ১০, সারমর্ম ৫, প্রতিবেদন ১০, অনুবাদ ৫, পত্র ১০, ব্যাকরণ ৩০, সাহিত্য ১০

সাধারণ ইংরেজি

১০০

Essay 20, Amplification 10, Precis 5, Objective Reporting 10, Translation 10, Letter 10, Short questions 5, Grammar 30

বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়

১০০

বাংলাদেশ বিষয়াবলি ৫০, আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি ৫০

গণিত ও দৈনন্দিন বিজ্ঞান

১০০

সাধারণ গণিত (এসএসসি পর্যন্ত) ৫০, দৈনন্দিন বিজ্ঞান ৫০

দ্বিতীয় ভাগ: আবশ্যিক আইন বিষয় (৫০০ নম্বর)

বিষয়

নম্বর

অন্তর্ভুক্ত আইন

দেওয়ানি মামলা সংক্রান্ত আইন

১০০

The Code of Civil Procedure, 1908; The Specific Relief Act, 1877; The Civil Courts Act, 1887; The Limitation Act, 1908; বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (ADR) ও সংশ্লিষ্ট আইন

অপরাধ সংক্রান্ত আইন

১০০

CrPC, 1898 (৪০); Penal Code, 1860 (৪০); Evidence Act, 1872 (২০)

পারিবারিক সম্পর্ক বিষয়ক আইন

১০০

মুসলিম আইন (৬০); হিন্দু আইন (২০); মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইন ১৯৩৯, মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ ১৯৬১ ও পারিবারিক আদালত আইন ২০২৩ (২০)

সাংবিধানিক আইন, জেনারেল ক্লজেস অ্যাক্ট ও আইনের ব্যাখ্যা

১০০

সাংবিধানিক আইন (৮০); The General Clauses Act, 1897 ও আইনের ব্যাখ্যার ধারণা

সম্পত্তি সংশ্লিষ্ট অন্যান্য আইন

১০০

Contract Act, 1872; Transfer of Property Act, 1882; Registration Act, 1908; State Acquisition and Tenancy Act, 1950; Non-Agricultural Tenancy Act, 1949

তৃতীয় ভাগ: ঐচ্ছিক আইন বিষয় (১০০ নম্বর, যেকোনো একটি)

  • ঐচ্ছিক বিষয়-১: শিশু আইন ২০১৩, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০, আইনগত সহায়তা প্রদান সংক্রান্ত আইন, The Special Powers Act 1974, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮।
  • ঐচ্ছিক বিষয়-২: দুর্নীতি দমন সংক্রান্ত আইন (দুর্নীতি দমন কমিশন আইন ২০০৪, মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২, Criminal Law Amendment Act 1958), আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) আইন ২০০২, The Negotiable Instruments Act 1881, মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন ২০২৬, সাইবার সুরক্ষা আইন ২০২৬।

ঐচ্ছিক বিষয়ে নতুন দুটি আইন (২০২৬ সালের) যুক্ত হয়েছে। পুরোনো নোট বা গাইড ধরে পড়লে এগুলো বাদ পড়ে যেতে পারে, তাই সবসময় BJSC-এর অফিসিয়াল বিজেএস পরীক্ষার সিলেবাস মিলিয়ে নিন।

আরও পড়ুন

BJS প্রিপারেশন গাইডলাইন: শূন্য থেকে ধাপে ধাপে কৌশল

ধাপ ১: BJS সিলেবাস প্রিন্ট করে বিশ্লেষণ করুন

প্রথম সপ্তাহে কোনো বই নয়, শুধু সিলেবাস। প্রতিটি আইনের পাশে নম্বর লিখুন এবং নিজেকে তিনটি রঙে ভাগ করুন: যা জানেন, যা আংশিক জানেন আর যা একেবারে নতুন। এই তালিকাই হবে আপনার BJS প্রস্তুতির ভিত্তি।

ধাপ ২: বিগত বছরের BJS প্রশ্ন সমাধান দিয়ে শুরু করুন

অন্তত ৮ থেকে ১০টি বিজেএস পরীক্ষার প্রশ্ন একবার দেখে নিন। কোন আইন থেকে বারবার প্রশ্ন আসে, কোন ধারায় প্রশ্নকর্তার আগ্রহ বেশি, তা বুঝে গেলে পড়ার পরিমাণ অর্ধেক কমে যায়। Live MCQ™ ব্লগে ১৬তম BJS প্রশ্ন সমাধান থেকে শুরু করে পুরোনো সব প্রশ্নের সমাধান PDF পাবেন।

ধাপ ৩: বেয়ার অ্যাক্ট (Bare Act) পড়ার অভ্যাস গড়ুন

BJS-এ প্রশ্ন আসে মূল আইনের ভাষা থেকে। তাই গাইডের পাশাপাশি সংবিধান, CPC, CrPC, Penal Code, Evidence Act-এর বেয়ার অ্যাক্ট হাতের কাছে রাখুন। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সংখ্যক ধারা পড়ে মার্জিনে নিজের ভাষায় সারাংশ লিখুন।

ধাপ ৪: বড় পাঁচ আইন আগে শেষ করুন

প্রিলি ও লিখিত দুই ক্ষেত্রেই সবচেয়ে বেশি ওজন বহন করে সংবিধান, দেওয়ানি কার্যবিধি, ফৌজদারি কার্যবিধি, দণ্ডবিধি এবং সাক্ষ্য আইন। প্রথম তিন মাসে এই পাঁচটি অন্তত একবার পুরো শেষ করুন। এরপর Specific Relief, Limitation, Contract, Transfer of Property ও পারিবারিক আইন ধরুন।

ধাপ ৫: প্রতিদিন সাধারণ বিষয়ে ১ থেকে ২ ঘণ্টা

আইনে ভালো হয়েও অনেকে বাংলা-ইংরেজি বা বাংলাদেশ বিষয়াবলিতে ৩০%-এর নিচে পেয়ে লিখিতে বাদ পড়েন। তাই প্রতিদিন ব্যাকরণ, অনুবাদ ও সাম্প্রতিক বিষয়ের জন্য আলাদা সময় রাখুন। বিসিএস প্রস্তুতির উপকরণ এখানে কাজে আসে, যেমন BCS English Preparation Guide এবং বাংলাদেশ বিষয়াবলি প্রস্তুতি।

ধাপ ৬: শুরু থেকেই লিখিত উত্তর লেখার অনুশীলন

প্রিলি শেষ হওয়ার পর লিখিত প্রস্তুতি শুরু করলে সময় কম পড়ে। সপ্তাহে অন্তত দুটি আইনি প্রশ্নের উত্তর লিখুন: প্রাসঙ্গিক ধারা, সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা, সুপ্রিম কোর্টের নজির (Leading Case) এবং উপসংহার, এই কাঠামোয়। সিলেবাসের প্রায় প্রতিটি আইনি বিষয়ে Leading Case-law উল্লেখ করা আছে, তাই গুরুত্বপূর্ণ মামলার নাম ও মূল সিদ্ধান্ত আলাদা খাতায় টুকে রাখুন।

ধাপ ৭: নিয়মিত মডেল টেস্ট ও ভুল বিশ্লেষণ

নেগেটিভ মার্কিং থাকায় প্রিলিতে কতগুলো প্রশ্নের উত্তর দেবেন, সেটিও কৌশলের অংশ। সাপ্তাহিক মডেল টেস্ট দিয়ে নিজের নিরাপদ উত্তরের সংখ্যা ও নির্ভুলতার হার বের করুন। প্রতিটি ভুল প্রশ্ন একটি "ভুলের খাতায়" লিখে রাখুন এবং পরীক্ষার আগে সেটি বারবার রিভিশন দিন।

৬ মাসের BJS প্রস্তুতি রুটিন (শূন্য থেকে শুরু)

প্রতিদিন গড়ে ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা পড়তে পারলে নিচের রুটিনটি বাস্তবসম্মত। চাকরি বা চেম্বারের পাশাপাশি পড়লে প্রতিটি ধাপ কিছুটা বাড়িয়ে নিন।

সময়

আইন অংশ

সাধারণ অংশ

অনুশীলন

মাস ১

সংবিধান, General Clauses Act

বাংলা ব্যাকরণ, English Grammar

বিগত প্রশ্ন বিশ্লেষণ

মাস ২

CPC, Specific Relief Act, Limitation Act

বাংলাদেশ বিষয়াবলি

সাপ্তাহিক টপিক টেস্ট

মাস ৩

CrPC, Penal Code, Evidence Act

আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি

সাপ্তাহিক টপিক টেস্ট

মাস ৪

মুসলিম ও হিন্দু আইন, পারিবারিক আইন

গণিত ও দৈনন্দিন বিজ্ঞান

সাবজেক্ট ফাইনাল

মাস ৫

Contract, TP Act, Registration, SAT ও Non-Agri Tenancy, Civil Courts Act, ADR

সাম্প্রতিক বিষয়

লিখিত উত্তর অনুশীলন

মাস ৬

পূর্ণ রিভিশন ও ঐচ্ছিক বিষয়

দুর্বল বিষয় রিভিশন

প্রতি সপ্তাহে ২টি ফুল মডেল টেস্ট

প্রিলির পর লিখিত পরীক্ষার জন্য প্রতিটি আইনি বিষয়ে আলাদা নোট তৈরি করুন এবং ঘড়ি ধরে ৩ ঘণ্টায় পূর্ণ উত্তর লেখার অনুশীলন করুন।

BJS বিগত প্রশ্ন বিশ্লেষণ

  • আইনের প্রশ্নে সংজ্ঞা, ধারা নম্বর, সময়সীমা ও ব্যতিক্রমের দিকে বেশি নজর থাকে। যেমন Limitation Act-এর মেয়াদ, CrPC-তে জামিনযোগ্য ও আমলযোগ্য অপরাধ।
  • সংবিধানের অনুচ্ছেদ, সংশোধনী ও মৌলিক অধিকার থেকে প্রায় প্রতিবারই প্রশ্ন থাকে।
  • মুসলিম আইনে উত্তরাধিকার, দেনমোহর, তালাক ও ওয়াকফ গুরুত্বপূর্ণ টপিক।
  • সাধারণ অংশে বাংলা ব্যাকরণ, English Grammar ও সাম্প্রতিক বিষয় থেকে তুলনামূলক সহজ প্রশ্ন আসে, যা নম্বর তোলার ভালো সুযোগ।

প্রতিটি বিজেএস প্রশ্ন সমাধান করার সময় শুধু উত্তর নয়, পুরো ধারাটি পড়ে নিন। এতে একই ধারা থেকে ভিন্নভাবে প্রশ্ন এলেও আটকাবেন না।

আরও পড়ুন 

শূন্য থেকে বার কাউন্সিল পরীক্ষার প্রস্তুতি - Bar Council Complete Guideline 2026

BJS প্রিপারেশন গাইডলাইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় বই ও রিসোর্স

  • বেয়ার অ্যাক্ট: সিলেবাসভুক্ত প্রতিটি আইনের হালনাগাদ মূল পাঠ, বিশেষ করে ২০২৩ ও ২০২৬ সালের নতুন আইনগুলো।
  • বাংলাদেশের সংবিধান: সর্বশেষ সংশোধনীসহ সংস্করণ।
  • বিগত বছরের প্রশ্ন সমাধান: BJS ও বার কাউন্সিলের প্রশ্ন ব্যাখ্যাসহ।
  • সাধারণ অংশের বই: বিসিএস মানের বাংলা, ইংরেজি, গণিত ও সাধারণ জ্ঞানের বই। Live Publications-এর প্রস্তুতি বইগুলো এ ক্ষেত্রে কাজে লাগবে।
  • সাম্প্রতিক বিষয়: মাসিক কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স ও নিয়মিত দৈনিক পত্রিকা।

BJS ভাইভা প্রস্তুতি: মৌখিক পরীক্ষায় যা দেখা হয়

লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের ১০০ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষায় ডাকা হয়। অফিসিয়াল নির্দেশিকা অনুযায়ী ভাইভায় ৫০%-এর কম পেলে প্রার্থী অকৃতকার্য হবেন। বোর্ড যা যাচাই করে:

  • আইন সম্পর্কিত জ্ঞান ও সাধারণ জ্ঞান
  • বুদ্ধিমত্তা, মানসিক সতর্কতা ও মানসিক শক্তি
  • হাতের লেখার স্পষ্টতা
  • চারিত্রিক দৃঢ়তা, বাচনভঙ্গি ও নেতৃত্বের গুণাবলি
  • পাঠ্যক্রম বহির্ভূত কার্যক্রম, যেমন খেলাধুলা, বিতর্ক, শখ

ভাইভার সময় সব সনদের মূলকপি ও এক সেট সত্যায়িত ফটোকপি দেখাতে হয়। চাকরিরত প্রার্থীদের নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের অনাপত্তিপত্র (N.O.C.) জমা দিতে হয়, না হলে মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হয় না। ভাইভায় আত্মবিশ্বাসী উপস্থাপনার কৌশল জানতে পড়ুন ভাইভা প্রস্তুতি গাইড।

Live MCQ™ দিয়ে BJS প্রস্তুতি যেভাবে সহজ হয়

Artboard 4.png

একা পড়ার সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, আপনি জানেন না প্রতিযোগীদের তুলনায় আপনি কোথায় আছেন। Live MCQ™ BJS প্রস্তুতি প্ল্যাটফর্মে হাজারো পরীক্ষার্থীর সঙ্গে একই প্রশ্নে লাইভ পরীক্ষা দিয়ে আপনি নিজের Score ও Rank জানতে পারবেন। ফলে প্রিলির আগেই নিজের প্রকৃত অবস্থান বুঝতে পারবেন।

যা যা পাচ্ছেন:

  • আইনভিত্তিক ২৫ হাজার+ MCQ: BJS সিলেবাসের প্রতিটি Act ধারা ধরে অনুশীলন করা যায়, তাই কোনো আইন বাদ পড়ার ভয় থাকে না।
  • General Part-এর পূর্ণ প্রস্তুতি: বাংলা, ইংরেজি, গণিত ও সাধারণ জ্ঞানে নিয়মিত অনুশীলন, যাতে আইনের বাইরের অংশেও নম্বর না হারান।
  • বিগত বছরের প্রশ্ন ও ব্যাখ্যাসহ সমাধান: BJS ও BCS-এর প্রশ্ন বিশ্লেষণ, সঙ্গে Job Solution ফিচার। এতে বোঝা যায় কোন ধরনের প্রশ্ন বারবার আসে।
  • এক্সপার্ট মেন্টর সাপোর্ট: প্রস্তুতির যেকোনো জায়গায় আটকে গেলে অভিজ্ঞ মেন্টরদের সরাসরি পরামর্শ পাবেন।
  • ভাইভা প্রস্তুতি: লিখিত পরীক্ষার পর শেষ ধাপের জন্য আমাদের ভাইভা প্রস্তুতি গাইড দেখে নিন।

Live MCQ Compass™ দিয়ে প্রস্তুতি নেবেন যেভাবে

শুধু বেশি পড়লেই হয় না, কী পড়বেন সেটা জানাও জরুরি। Live MCQ Compass™ আপনার পার্সোনাল স্মার্ট স্টাডি গাইড। ২০১৭ সাল থেকে প্রকৃত পরীক্ষার্থীদের ২০০ কোটি+ প্রশ্নোত্তর বিশ্লেষণ করে এটি জানায় আপনার প্রস্তুতি কোথায় আছে আর এরপর কী পড়া উচিত।

ধাপে ধাপে Compass ব্যবহার:

  1. নিয়মিত পরীক্ষা ও অনুশীলন করুন: যত বেশি পরীক্ষা দেবেন, Compass তত নিখুঁতভাবে আপনার পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করতে পারবে।
  2. Readiness Score দেখুন: এটি জানায় আপনি পরীক্ষার জন্য কতটা প্রস্তুত। সপ্তাহে একবার স্কোর মিলিয়ে দেখুন অগ্রগতি হচ্ছে কি না।
  3. Weakness Map/Heatmap থেকে দুর্বল টপিক খুঁজুন: কোন বিষয় বা টপিকে বারবার ভুল হচ্ছে, তা এক নজরে দেখা যায়। সেখান থেকেই পরের সপ্তাহের পড়ার তালিকা বানান।
  4. Percentile Rank দিয়ে প্রতিযোগিতায় অবস্থান বুঝুন: অন্য পরীক্ষার্থীদের তুলনায় আপনি কোথায় আছেন, সেটি জানলে লক্ষ্য ঠিক করা সহজ হয়।
  5. Smart Practice করুন: আপনার পারফরম্যান্স অনুযায়ী Compass নিজে থেকেই প্রশ্নের কঠিনতা ঠিক করে, তাই প্রতিটি অনুশীলন হয় আপনার লেভেলের উপযোগী।
  6. Daily Plan অনুসরণ করুন: পরীক্ষা পর্যন্ত দিনভিত্তিক গাইডলাইন মেনে পড়লে শেষ মুহূর্তে চাপ কমে যায়।

১৯তম BJS প্রস্তুতির প্যাকেজ

প্যাকেজ

মূল্য

যা থাকছে

১৯তম জুডিসিয়াল সার্ভিস (BJS) প্রস্তুতি: লং কোর্স

৳১২৯৯

রুটিনে মোট ১০০টি লাইভ পরীক্ষা (আইন ৩৮টি, জেনারেল পার্ট ৪০টি, রিভিশন ১০টি, ফুল মডেল টেস্ট ১২টি), বার ও বিজেএস জব সল্যুশন ২৫টি, আইন বিষয়ভিত্তিক ক্লাস ২৯টি, ২১,০০০+ আর্কাইভ প্রশ্ন

১৯তম জুডিসিয়াল সার্ভিস (BJS): র‍্যাপিড ব্যাচ

৳৭৯৯

রুটিনে মোট ২০টি লাইভ পরীক্ষা (আইন বিষয়ক সাবজেক্ট ফাইনাল ৬টি, জেনারেল পার্ট সাবজেক্ট ফাইনাল ৬টি)

দুটি প্যাকেজের মেয়াদ ১৯তম BJS প্রিলি পর্যন্ত অথবা সর্বোচ্চ ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৬ পর্যন্ত। শুরুতে ৭ দিনের ফ্রি ট্রায়াল নিয়ে দেখে নিতে পারেন। বিস্তারিত দেখুন BJS লং কোর্স ও BJS র‍্যাপিড ব্যাচ পেজে, অথবা Live MCQ™ এর সব প্যাকেজ একসঙ্গে দেখুন।

BJS প্রস্তুতিতে যে ভুলগুলো এড়িয়ে চলবেন

  • শুধু গাইড বই নির্ভরতা: বেয়ার অ্যাক্ট না পড়লে ধারার সূক্ষ্ম শব্দে ভুল হয়।
  • সাধারণ অংশ অবহেলা: লিখিতে কোনো একটি বিষয়ে ৩০%-এর কম পেলেই অকৃতকার্য।
  • পুরোনো সিলেবাস অনুসরণ: ২০২৩ ও ২০২৬ সালের নতুন আইন বাদ পড়ে যায়।
  • প্রিলিতে অন্ধ অনুমান: প্রতি ভুলে ০.২৫ নম্বর কাটা যায়, চারটি ভুলেই একটি সঠিক উত্তরের নম্বর শেষ।
  • লিখিত প্রস্তুতি দেরিতে শুরু: প্রিলির পর হাতে সময় কম থাকে, তাই শুরু থেকেই লেখার অভ্যাস জরুরি।
  • Leading Case উপেক্ষা: লিখিত উত্তরে প্রাসঙ্গিক নজির না থাকলে নম্বর কমে যায়।

FAQ

প্রশ্ন ১: শূন্য থেকে BJS প্রস্তুতি নিতে কত সময় লাগে?

উত্তর: নিয়মিত ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা পড়লে প্রিলির জন্য ৫ থেকে ৬ মাস যথেষ্ট। লিখিত ও ভাইভাসহ পূর্ণ প্রস্তুতির জন্য প্রিলির প্রস্তুতির সঙ্গেই লেখার অনুশীলন চালিয়ে যেতে হবে।

প্রশ্ন ২: BJS পরীক্ষায় বয়সসীমা কত?

উত্তর: নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লিখিত তারিখে অনধিক ৩২ বছর। বয়স নির্ধারিত হয় এসএসসি বা সমমানের সনদ অনুযায়ী।

প্রশ্ন ৩: BJS প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় নেগেটিভ মার্কিং আছে কি?

উত্তর: হ্যাঁ, প্রতিটি ভুল উত্তরের জন্য ০.২৫ নম্বর কাটা হয়। পাস নম্বর ন্যূনতম ৫০।

প্রশ্ন ৪: প্রিলির নম্বর কি চূড়ান্ত ফলাফলে যোগ হয়?

উত্তর: না। প্রিলির নম্বর শুধু লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণের যোগ্যতা নির্ধারণ করে, লিখিত বা মৌখিকের নম্বরের সঙ্গে যোগ হয় না।

প্রশ্ন ৫: এলএলবি শেষ বর্ষের পরীক্ষার্থীরা কি BJS-এ আবেদন করতে পারবেন?

উত্তর: পারবেন, যদি আবেদনের শেষ তারিখে বা তার আগে পরীক্ষা শেষ হয় এবং বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পরীক্ষা শেষ হওয়ার তারিখসহ সনদ জমা দেওয়া হয়।

প্রশ্ন ৬: BJS লিখিত পরীক্ষা কি ইংরেজিতে দেওয়া যায়?

উত্তর: হ্যাঁ, প্রতিটি বিষয়ে বাংলা বা ইংরেজি যেকোনো একটি ভাষায় লেখা যায়। তবে একই বিষয়ে দুই ভাষা মিশিয়ে লেখা যায় না।

প্রশ্ন ৭: BJS ও বার কাউন্সিলের প্রস্তুতি কি একসঙ্গে নেওয়া যায়?

উত্তর: হ্যাঁ। দুই পরীক্ষার আইনভিত্তিক অনেক বিষয় একই, তবে প্রতিটি পরীক্ষার কাঠামো অনুযায়ী আলাদা অনুশীলন প্রয়োজন।

প্রশ্ন ৮: BJS প্রস্তুতিতে কোন আইন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ?

উত্তর: সংবিধান, দেওয়ানি কার্যবিধি, ফৌজদারি কার্যবিধি, দণ্ডবিধি ও সাক্ষ্য আইন। প্রিলি ও লিখিত দুই ধাপেই এগুলোর ওজন সবচেয়ে বেশি।

আজই প্রথম লাইভ পরীক্ষা দিয়ে নিজের অবস্থান যাচাই করুন। এখনই Live MCQ™ অ্যাপ ডাউনলোড করুন এবং BJS প্রস্তুতির প্যাকেজ বেছে নিয়ে শুরু করুন আপনার বিচারক হওয়ার যাত্রা।

মন্তব্য

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

মন্তব্য করতে লগইন করুন

এক ক্লিকে Google বা Facebook দিয়ে সাইন ইন করুন; মন্তব্য, পার্সোনাল রিপোর্ট ও সব ফিচার আনলক হবে।