BJS Syllabus | বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষার সিলেবাস ও মানবণ্টন
সিভিল জজ হওয়ার প্রস্তুতি শুরুর আগে সবার আগে যে প্রশ্নটি আসে, তা হলো: কী পড়ব আর কতটুকু পড়ব? এর উত্তর মিলবে বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস কমিশনের (BJSC) প্রকাশিত সংশোধিত সিলেবাসে। BJS Syllabus অনুযায়ী প্রার্থীদের তিনটি ধাপ পার হতে হবে: ১০০ নম্বরের MCQ প্রিলিমিনারি, ১০০০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা এবং ১০০ নম্বরের ভাইভা। এর মধ্যে আইনের গুরুত্বই সবচেয়ে বেশি। প্রিলির ১০০ নম্বরের ৬০ এবং লিখিতের ১০০০ নম্বরের ৬০০ নম্বরই আইন বিষয় থেকে।
এই লেখায় অফিসিয়াল BJSC নথি ধরে সাজানো হয়েছে বিজেএস সিলেবাস এর প্রতিটি ধাপ, প্রতিটি পত্রের মানবণ্টন, আইনভিত্তিক টপিক, ঐচ্ছিক বিষয়, পাস নম্বর এবং ২০২৬ সালে নতুন যুক্ত আইনগুলো। শেষে রয়েছে সিলেবাস অনুযায়ী প্রস্তুতির কৌশল ও তথ্যসূত্র।
BJS Syllabus একনজরে
BJS প্রিলিমিনারি পরীক্ষার সিলেবাস
প্রিলিমিনারি পরীক্ষা হয় ১০০ নম্বরের MCQ পদ্ধতিতে। মোট ১০০টি প্রশ্ন থাকে, প্রতিটির মান ১ এবং সময় ১ ঘণ্টা। প্রতিটি ভুল উত্তরের জন্য ০.২৫ নম্বর কাটা যায়। লিখিত পরীক্ষায় বসতে হলে প্রিলিতে ন্যূনতম ৫০ নম্বর পেতে হবে।
BJSC-এর নির্দেশিকা অনুযায়ী প্রিলিতে প্রশ্ন আসে সাধারণ বাংলা, সাধারণ ইংরেজি, বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি, সাধারণ গণিত, দৈনন্দিন বিজ্ঞান, বুদ্ধিমত্তা এবং আইন বিষয় থেকে। বিষয়ভিত্তিক নম্বর বণ্টন:
গুরুত্বপূর্ণ: প্রিলিমিনারির নম্বর লিখিত বা মৌখিক পরীক্ষার নম্বরের সঙ্গে যোগ হয় না। এটি কেবল লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণের যোগ্যতা নির্ধারণ করে। আইনের ৬০ নম্বরের প্রশ্ন আসে লিখিত পরীক্ষার আবশ্যিক আইন বিষয়গুলো থেকেই, তাই প্রিলি ও লিখিতের আইন প্রস্তুতি একসঙ্গে এগোয়।
BJS লিখিত পরীক্ষার সিলেবাস (১০০০ নম্বর)
প্রিলিতে উত্তীর্ণ প্রার্থীদের মোট ১০০০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা দিতে হয়, প্রতিটি বিষয়ের জন্য সময় ৩ ঘণ্টা। লিখিত পরীক্ষা তিন ভাগে বিভক্ত:
প্রথম ভাগ: আবশ্যিক সাধারণ বিষয় (৪০০ নম্বর)
১. সাধারণ বাংলা (১০০ নম্বর)
ব্যাকরণের টপিক: ধ্বনি, দ্বিরুক্ত শব্দ, উপসর্গ, ধাতু, প্রত্যয়, পদ-প্রকরণ, ক্রিয়াপদ ও কালের প্রয়োগ, সাধু ও চলিত ভাষা, কারক ও বিভক্তি, বাক্য শুদ্ধিকরণ, সন্ধি, সমাস, বচন, সমার্থক ও বিপরীত শব্দ, বাগধারা ও প্রবাদ-প্রবচন, যতিচিহ্নের ব্যবহার, এক কথায় প্রকাশ, উক্তি পরিবর্তন এবং বাক্য রূপান্তর।
সাহিত্য অংশে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, মাইকেল মধুসূদন দত্ত, মীর মোশাররফ হোসেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, জীবনানন্দ দাশ, জসীম উদ্দীন, বেগম রোকেয়া, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, শামসুর রাহমান, হুমায়ূন আহমেদ, সৈয়দ শামসুল হক, সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহসহ আধুনিক যুগের কবি, সাহিত্যিক ও নাট্যকারদের সম্পর্কে প্রশ্ন থাকে।
২. সাধারণ ইংরেজি (১০০ নম্বর)
Grammar অংশে: Correction of errors, Fill in the blanks, Idioms and Phrases, Transformation of Sentences, Verbs and Prepositions, Parts of speech, Voice, Narration, Synonyms and Antonyms, Articles, Tense এবং Degrees।
৩. বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি (১০০ নম্বর)
- বাংলাদেশ বিষয়াবলি (৫০ নম্বর): ভৌগোলিক ও জনমিতিক বৈশিষ্ট্য, ইতিহাস ও মুক্তিযুদ্ধ, আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক জীবন, শিল্প-সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, প্রাকৃতিক সম্পদ, পানি ও জ্বালানি ব্যবস্থাপনা, উন্নয়ন কৌশল ও নীতি, পররাষ্ট্রনীতি, আইনসভা-নির্বাহী-বিচার বিভাগ, কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় সরকার, দুর্নীতি দমন, নারীর ক্ষমতায়ন, সুশাসন, প্রশাসনিক-ভূমি-শিক্ষা সংস্কার, IMF-ADB-IDB-World Bank এর ভূমিকা, GDP ও মাথাপিছু আয়, অভিবাসন, পরিবেশ এবং সাম্প্রতিক বিষয়।
- আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি (৫০ নম্বর): আন্তর্জাতিক আইন ও মিউনিসিপ্যাল আইনের সম্পর্ক, রাষ্ট্রের অধিকার ও দায়িত্ব, আন্তর্জাতিক বিরোধ নিষ্পত্তি, রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব, সমুদ্র আইন ও বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা, জাতিসংঘ ও এর অঙ্গসংস্থা, পরিবেশ ও জলবায়ু বিষয়ক কনভেনশন, NATO, NAM, Commonwealth, কূটনৈতিক আইন, অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তি, আঞ্চলিক সংস্থা (ASEAN, BIMSTEC, SAARC, EU, OIC ইত্যাদি), বিভিন্ন দেশের পররাষ্ট্রনীতি, আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং সাম্প্রতিক বিষয়।
৪. সাধারণ গণিত ও দৈনন্দিন বিজ্ঞান (১০০ নম্বর)
- সাধারণ গণিত, এসএসসি পর্যন্ত (৫০ নম্বর): পাটিগণিত (সরলীকরণ, গড়, গ.সা.গু ও ল.সা.গু, ঐকিক নিয়ম, শতকরা, সরল সুদ, লাভ-ক্ষতি, কাজ ও সময়, অনুপাত-সমানুপাত), বীজগণিত (বর্গ ও ঘনের সূত্র, বহুপদী, ভাগশেষ উপপাদ্য, উৎপাদকে বিশ্লেষণ, সরল সমীকরণ, দুই চলকের সরল সহসমীকরণ, লেখচিত্র) এবং জ্যামিতি (রেখা, কোণ, ত্রিভুজ, সামান্তরিক, বৃত্ত, পিথাগোরাসের উপপাদ্য, ত্রিভুজের ক্ষেত্রফল)।
- দৈনন্দিন বিজ্ঞান (৫০ নম্বর): তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (কম্পিউটার, হার্ডওয়্যার-সফটওয়্যার, অপারেটিং সিস্টেম, ডেটাবেজ, নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট), আলো, শব্দ, বিদ্যুৎ, চুম্বক, রোগ ও স্বাস্থ্যসেবা, বায়ুমণ্ডল ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, জীবপ্রযুক্তি (DNA, জিন, ক্লোনিং), প্রাথমিক পদার্থবিজ্ঞান এবং দৈনন্দিন জীবনে রসায়ন।
দ্বিতীয় ভাগ: আবশ্যিক আইন বিষয় (৫০০ নম্বর)
BJS Syllabus 2026-এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ এটি। পাঁচটি আইন বিষয়ের প্রতিটি ১০০ নম্বরের:
১. দেওয়ানি মামলা সংক্রান্ত আইনের সিলেবাস
- The Code of Civil Procedure, 1908: ডিক্রি ও আদেশ, Mesne Profit , দেওয়ানি আদালতের এখতিয়ার, Res subjudice ও Res judicata, মামলা দায়েরের স্থান ও কাঠামো, পক্ষগণ, সমন জারি, আরজি ও লিখিত জবাব, ইস্যু গঠন, সাক্ষী তলব, মামলা প্রত্যাহার ও আপস, কমিশন, সরকার ও নাবালকের বিরুদ্ধে মামলা, ইন্টারপ্লিডার মামলা, অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা, রিসিভার নিয়োগ, ডিক্রি জারি, আপিল, রেফারেন্স, রিভিউ, রিভিশন এবং আদালতের সহজাত ক্ষমতা।
- The Specific Relief Act, 1877: দখল পুনরুদ্ধার, চুক্তির সুনির্দিষ্ট প্রতিকার, দলিল সংশোধন ও বাতিল, ঘোষণামূলক ডিক্রি, স্থায়ী ও বাধ্যতামূলক নিষেধাজ্ঞা এবং নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুরের নীতি।
- The Civil Courts Act, 1887: দেওয়ানি আদালতের গঠন ও এখতিয়ার, জেলা জজের মামলা স্থানান্তরের ক্ষমতা।
- The Limitation Act, 1908: তামাদির সংজ্ঞা ও প্রয়োগ, মামলা-আপিল-দরখাস্তের তামাদি, সময় বৃদ্ধি, প্রতারণা, স্বীকৃতি, ইজমেন্ট, প্রতিকূল দখল, আইনগত অক্ষমতা এবং বিলম্ব মওকুফ।
- বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (ADR): ADR-এর ধারণা ও পদ্ধতি, এবং যেসব আইনে ADR ব্যবস্থা আছে: দেওয়ানি কার্যবিধি, মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ ১৯৬১, কাস্টমস আইন ২০২৩, আয়কর আইন ২০২৩, পারিবারিক আদালত আইন ২০২৩, মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন ২০১২, বিরোধ মীমাংসা (পৌর এলাকা) বোর্ড আইন ২০০৪, সালিশ আইন ২০০১, অর্থ ঋণ আদালত আইন ২০০৩, গ্রাম আদালত আইন ২০০৬ এবং বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬।
২. অপরাধ সংক্রান্ত আইনের সিলেবাস
- The Code of Criminal Procedure, 1898 (৪০ নম্বর): এজাহার, নালিশ, চার্জশিট, আমলযোগ্য ও আমল-অযোগ্য অপরাধ, জামিনযোগ্য ও জামিন-অযোগ্য অপরাধ, ফৌজদারি আদালতের গঠন, গ্রেপ্তার, তল্লাশি, শান্তিরক্ষার মুচলেকা, বেআইনি সমাবেশ, স্থাবর সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধ, অভিযোগ গঠন, সংক্ষিপ্ত বিচার, দায়রা আদালতে বিচার, রায়, আপিল, রিভিশন, জামিন ও আগাম জামিন এবং হাইকোর্ট বিভাগের সহজাত ক্ষমতা।
- The Penal Code, 1860 (৪০ নম্বর): অপরাধের উপাদান, Mens rea, সাধারণ ব্যতিক্রম, যৌথ দায়, প্ররোচনা, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, রাষ্ট্রবিরোধী অপরাধ, মিথ্যা সাক্ষ্য, মানবদেহ সংক্রান্ত অপরাধ (খুন, দণ্ডনীয় নরহত্যা, আঘাত, অপহরণ), সম্পত্তি সংক্রান্ত অপরাধ (চুরি, চাঁদাবাজি, দস্যুতা, ডাকাতি, প্রতারণা, বিশ্বাসভঙ্গ), জালিয়াতি, বিবাহ সংক্রান্ত অপরাধ, মানহানি ও অপরাধের উদ্যোগ।
- The Evidence Act, 1872 (২০ নম্বর): প্রাসঙ্গিকতা, স্বীকৃতি ও স্বীকারোক্তি, বিশেষজ্ঞের মতামত, মৌখিক ও দালিলিক সাক্ষ্য, পরিস্থিতিগত সাক্ষ্য, সরকারি ও বেসরকারি দলিল, প্রমাণের দায়, এস্টপেল, সাক্ষীর যোগ্যতা, সাক্ষীর জেরা ও বিশ্বাসযোগ্যতা।
৩. পারিবারিক সম্পর্ক বিষয়ক আইনের সিলেবাস
- মুসলিম আইন (৬০ নম্বর): উৎস (কুরআন, হাদিস, ইজমা, কিয়াস), ইজতিহাদ, বিভিন্ন মাযহাব, সুন্নি উত্তরাধিকার নীতি, বিবাহ ও বিবাহ বিচ্ছেদ, বিবাহ নিবন্ধন, দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধার, দেনমোহর, ভরণপোষণ, হিবা, ওয়াকফ (The Wakfs Ordinance, 1962), মরজুল মওত, উইল, হিবা-বিল-এওয়াজ, শুফা, অভিভাবকত্ব এবং পিতৃত্ব ও বৈধতা।
- হিন্দু আইন (২০ নম্বর): উৎস ও মতবাদ, বিবাহ, ভরণপোষণ, দত্তক, নাবালকত্ব ও অভিভাবকত্ব, দায়ভাগ ও মিতাক্ষরা মতে উত্তরাধিকার, স্ত্রীধন, ধর্মীয় দেবোত্তর সম্পত্তি, উইল এবং হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন, ২০১২।
- অন্যান্য আইন (২০ নম্বর): The Dissolution of Muslim Marriages Act, 1939; The Muslim Family Laws Ordinance, 1961 এবং পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ (২০২৩ সনের ২৬ নং আইন)।
৪. সাংবিধানিক আইন, জেনারেল ক্লজেস অ্যাক্ট ও আইনের ব্যাখ্যা
- সাংবিধানিক আইন (৮০ নম্বর): সংবিধানের প্রকৃতি, আইনের শাসন, ক্ষমতার পৃথকীকরণ, মৌলিক অধিকার ও এর প্রয়োগ, রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি, নাগরিকত্ব, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিসভা, জরুরি ক্ষমতা, সংসদ ও আইন প্রণয়ন, অধ্যাদেশ, সংবিধান সংশোধন, সুপ্রিম কোর্টের গঠন ও এখতিয়ার, বিচারক নিয়োগ ও অপসারণ, বিচারিক পর্যালোচনা, অধস্তন আদালত, প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল, সুপ্রিম জুডিসিয়াল কাউন্সিল, নির্বাচন কমিশন, জুডিসিয়াল সার্ভিস কমিশন, সরকারি কর্ম কমিশন এবং সংবিধানের ৩য় থেকে ৭ম তফসিল।
- The General Clauses Act, 1897: উদ্দেশ্য, সংজ্ঞা, রহিতকরণের প্রভাব, সময় গণনা ও সাধারণ ব্যাখ্যার নিয়ম।
- আইনের ব্যাখ্যার ধারণা: Literal Rule, Golden Rule, Mischief Rule, Harmonious Construction, ব্যাখ্যার অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক সহায়ক, ব্যাখ্যার নীতিবাক্য, দণ্ডবিধি ও সংবিধানের ব্যাখ্যা।
৫. সম্পত্তি সংশ্লিষ্ট অন্যান্য আইনের সিলেবাস
- The Contract Act, 1872: প্রস্তাব ও গ্রহণ, প্রতিদান, বাতিল ও বাতিলযোগ্য চুক্তি, পক্ষের যোগ্যতা, স্বাধীন সম্মতি, জবরদস্তি, অবৈধ প্রভাব, প্রতারণা, ভুল, সম্ভাব্য চুক্তি, চুক্তি সম্পাদন ও ভঙ্গ, ক্ষতিপূরণ ও জামানত, বেইলমেন্ট, প্লেজ এবং এজেন্সি।
- The Transfer of Property Act, 1882: সম্পত্তির প্রকার, হস্তান্তরযোগ্যতা, শর্তযুক্ত হস্তান্তর, Rule against Perpetuity, Lis pendens, প্রতারণামূলক হস্তান্তর, Part Performance, বিক্রয়, বন্ধক, খালাস, ইজারা, বিনিময় ও দান।
- The Registration Act, 1908: বাধ্যতামূলক ও ঐচ্ছিক নিবন্ধনযোগ্য দলিল, উপস্থাপনের সময় ও স্থান, নিবন্ধন ও অনিবন্ধনের প্রভাব, নিবন্ধন কর্মকর্তার ক্ষমতা এবং নিবন্ধন প্রত্যাখ্যানের প্রতিকার।
- The State Acquisition and Tenancy Act, 1950: খাজনা আদায়ের স্বার্থ অধিগ্রহণ, স্বত্বলিপি প্রস্তুত ও সংশোধন, দেওয়ানি আদালতের এখতিয়ারে বাধা, অগ্রক্রয়, খাজনা, জমির একত্রীকরণ এবং ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনাল।
- The Non-Agricultural Tenancy Act, 1949: অকৃষি প্রজার শ্রেণি, ১২ বছর ও তার কম মেয়াদের প্রজাস্বত্ব, উপ-প্রজা ও অগ্রক্রয়।
BJSC-এর বিস্তারিত সিলেবাসে প্রায় প্রতিটি আইনি বিষয়ের শেষে "Leading Case-laws of the Supreme Court of Bangladesh" উল্লেখ আছে। অর্থাৎ লিখিত পরীক্ষায় সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের গুরুত্বপূর্ণ নজির জানা থাকা জরুরি।
তৃতীয় ভাগ: ঐচ্ছিক আইন বিষয় (১০০ নম্বর)
নিচের দুটি গ্রুপ থেকে যেকোনো একটি বেছে নিতে হয়:
বিজেএস সিলেবাস ২০২৬-এ কী কী সংশোধিত হয়েছে
BJSC-এর সিলেবাসের আইন বেশ কিছু আইন ২০২৬ সালে সংশোধিত হয়েছে:
আবশ্যিক আইন
Code of Civil Procedure (CPC)
Code of Criminal Procedure (CrPC)
Civil Courts Act
Registration Act
Transfer of Property Act,
ঐচ্ছিক আইন–১
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন (সংশোধনী, ২০২৬)
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন (সংশোধনী, ২০২৬)
আইনগত সহায়তা প্রদান আইন (সংশোধনী, ২০২৬)
আইনগত সহায়তা প্রদান (আইনি পরামর্শ ও মধ্যস্থতা) বিধিমালা, ২০২৫
আইনগত সহায়তা দান নীতিমালা, ২০১৪ (২০২৫)
ঐচ্ছিক আইন–২
সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬ ও সংশোধনী
Negotiable Instruments Act (সংশোধনী)
মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০২৬।
তাই প্রস্তুতির আগে অবশ্যই BJSC-এর অফিসিয়াল সিলেবাস পেইজ থেকে সর্বশেষ PDF মিলিয়ে নিন।
BJS ভাইভা (মৌখিক পরীক্ষা) সিলেবাস
লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের ১০০ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষায় ডাকা হয়। বোর্ড যা মূল্যায়ন করে:
- আইন সম্পর্কিত জ্ঞান ও সাধারণ জ্ঞান
- বুদ্ধিমত্তা, মানসিক সতর্কতা ও মানসিক শক্তি
- হাতের লেখার স্পষ্টতা
- চারিত্রিক দৃঢ়তা, বাচনভঙ্গি ও নেতৃত্বের গুণাবলি
- পাঠ্যক্রম বহির্ভূত কার্যক্রম, যেমন খেলাধুলা, বিতর্ক, শখ
BJSC-এর নির্দেশিকা অনুযায়ী মৌখিক পরীক্ষায় ৫০%-এর কম নম্বর পেলে প্রার্থী অকৃতকার্য হবেন। ভাইভার সময় সব সনদের মূলকপি ও এক সেট সত্যায়িত ফটোকপি দেখাতে হয়, আর চাকরিরত প্রার্থীদের অনাপত্তিপত্র (N.O.C.) জমা দিতে হয়। ভাইভায় আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে উত্তর দেওয়ার কৌশল জানতে পড়ুন ভাইভা প্রস্তুতি গাইড।
BJS পরীক্ষার পাস নম্বর
লিখিত পরীক্ষার উত্তরপত্র গোপন দলিল হিসেবে গণ্য হয় এবং পুনর্নিরীক্ষণের কোনো আবেদন গ্রহণ করা হয় না। তাই প্রথমবারেই প্রতিটি বিষয়ে নিরাপদ নম্বর নিশ্চিত করা জরুরি।
BJS পরীক্ষায় আবেদনের যোগ্যতা
- শিক্ষাগত যোগ্যতা: স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনে ৪ বছর মেয়াদি স্নাতক (সম্মান) বা আইনে স্নাতক; অথবা স্বীকৃত বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনে ৩ বছর মেয়াদি স্নাতকসহ স্নাতকোত্তর।
- ফলাফল: আইনে স্নাতক বা স্নাতক (সম্মান), ক্ষেত্রমতে স্নাতকোত্তরে কমপক্ষে দ্বিতীয় শ্রেণি বা সমমানের সিজিপিএ। সিজিপিএ স্কেলকে ৮০% ধরে শতকরায় রূপান্তর করা হয়, ৪৫% থেকে ৬০%-এর কম দ্বিতীয় শ্রেণি।
- পরীক্ষার্থী প্রার্থী: আবেদনের শেষ তারিখে বা তার আগে এলএলবি/এলএলএম পরীক্ষা শেষ হলে আবেদন করা যাবে; ভাইভায় দ্বিতীয় শ্রেণির প্রমাণ দেখাতে হবে।
- বয়স: বিজ্ঞপ্তিতে উল্লিখিত তারিখে অনধিক ৩২ বছর, এসএসসি সনদ অনুযায়ী। এফিডেভিট গ্রহণযোগ্য নয়।
- জাতীয়তা: বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে; বিদেশি নাগরিককে বিয়ে করলে বা বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিলে অযোগ্য।
- শারীরিক মান: পুরুষ প্রার্থী কমপক্ষে ১.৫২৪ মিটার ও ৪৫ কেজি, মহিলা প্রার্থী ১.৪৭৩ মিটার ও ৪০ কেজি।
আগের বিজ্ঞপ্তির ধরন বুঝতে দেখুন ১৮তম সহকারী জজ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২৫।
আরও পড়ুন
BJS Syllabus অনুযায়ী প্রস্তুতির কৌশল
সিলেবাসকে নম্বর অনুযায়ী ভাগ করুন
প্রিলিতে আইন ৬০ নম্বর, লিখিতে আইন ৬০০ নম্বর। তাই পড়ার সময়ের অন্তত ৬০% আইনে দিন। প্রথমে সংবিধান, দেওয়ানি কার্যবিধি, ফৌজদারি কার্যবিধি, দণ্ডবিধি ও সাক্ষ্য আইন শেষ করুন, কারণ প্রিলি ও লিখিত দুই ধাপেই এগুলোর ওজন সবচেয়ে বেশি।
বেয়ার অ্যাক্ট ও Leading Case একসঙ্গে পড়ুন
বিজেএস পরীক্ষার সিলেবাসে প্রতিটি আইনের সঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের নজির উল্লেখ আছে। তাই মূল ধারা পড়ার পাশাপাশি প্রতিটি টপিকে অন্তত দুই-একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলার নাম ও সিদ্ধান্ত নোট করুন।
নতুন আইনগুলো আলাদা করে পড়ুন
পারিবারিক আদালত আইন ২০২৩, আয়কর ও কাস্টমস আইন ২০২৩ এবং ঐচ্ছিক অংশের দুটি ২০২৬ সালের আইন নতুন হওয়ায় এগুলো থেকে প্রশ্ন আসার সম্ভাবনা বেশি। হালনাগাদ বেয়ার অ্যাক্ট সংগ্রহ করে পড়ুন।
সাধারণ অংশে ৩০% এর নিরাপদ সীমা পার করুন
লিখিতে কোনো একটি বিষয়ে ৩০%-এর কম পেলে পুরো লিখিত পরীক্ষায় অকৃতকার্য। তাই বাংলা, ইংরেজি, বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয় এবং গণিত-বিজ্ঞানে প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় দিন। সাধারণ অংশের বইয়ের জন্য দেখতে পারেন Live Publications-এর বই।
বিগত প্রশ্ন ও মডেল টেস্ট
বিগত বছরের বিজেএস প্রশ্ন বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায় কোন আইন ও কোন ধারা থেকে বারবার প্রশ্ন আসে। নিয়মিত মডেল টেস্ট দিয়ে নেগেটিভ মার্কিং সামলানোর অভ্যাস গড়ুন। সব রুটিন একসঙ্গে পাবেন Live MCQ™ পরীক্ষার রুটিন পেইজে।
Live MCQ™ BJS প্রস্তুতি প্যাকেজ ২০২৬
BJS Syllabus 2026 ধরে সাজানো রুটিনে প্রস্তুতি নিতে Live MCQ™ BJS প্রস্তুতি প্ল্যাটফর্মে রয়েছে দুটি প্যাকেজ। হাজারো পরীক্ষার্থীর সঙ্গে লাইভ পরীক্ষা দিয়ে নিজের Score ও Rank যাচাই করতে পারবেন।
দুটি প্যাকেজেই যা থাকছে:
- Subject Care: বাংলা সাহিত্য ও ব্যাকরণ, English Literature ও English Wizard, Math Master, GKpedia (বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক), Science Expert, ICT Expert, ভূগোল ও নৈতিকতা, প্রতিটিতে ক্লাস ও পরীক্ষা।
- প্রিমিয়াম ফিচার: Topic Guru, Quiz Master, Smart Search ও Dynamic Panel।
- প্যাকেজের মেয়াদকালে অফার করা অন্য যেকোনো BJS কোর্সে অ্যাক্সেস।
- নতুন অ্যাকাউন্টে ৭ দিনের ফ্রি ট্রায়াল।
দীর্ঘ সময় হাতে থাকলে পূর্ণ সিলেবাস কাভার করতে লং কোর্স, আর পরীক্ষার আগে দ্রুত রিভিশনের জন্য র্যাপিড ব্যাচ বেছে নিতে পারেন। সব প্যাকেজ একসঙ্গে দেখতে ভিজিট করুন Live MCQ™ প্যাকেজসমূহ।
FAQ
প্রশ্ন ১: ২ বছরের এলএলবি (পাস কোর্স) করার পর কী BJS পরীক্ষা দেওয়া যাবে?
উত্তর: না, ২ বছরের এলএলবি (পাস কোর্স) করার পর সরাসরি বিজিএস (BJS) পরীক্ষা দেওয়া যাবে না।
প্রশ্ন ২: BJS Syllabus 2026 অনুযায়ী প্রিলিতে কত নম্বর থাকে?
উত্তর: প্রিলিমিনারি ১০০ নম্বরের, ১০০টি MCQ। এর মধ্যে আইন ৬০ এবং বাংলা, ইংরেজি, গণিত, বিজ্ঞান ও সাধারণ জ্ঞান মিলিয়ে ৪০ নম্বর।
প্রশ্ন ৩: বিজেএস প্রিলিতে নেগেটিভ মার্কিং কত?
উত্তর: প্রতিটি ভুল উত্তরে ০.২৫ নম্বর কাটা হয়। পাস নম্বর ন্যূনতম ৫০।
প্রশ্ন ৪: BJS লিখিত পরীক্ষায় কয়টি বিষয় ও কত নম্বর?
উত্তর: মোট ১০টি বিষয়, ১০০০ নম্বর। ৪টি আবশ্যিক সাধারণ বিষয় (৪০০), ৫টি আবশ্যিক আইন বিষয় (৫০০) এবং ১টি ঐচ্ছিক আইন বিষয় (১০০)।
প্রশ্ন ৫: লিখিত পরীক্ষায় পাস করতে কত নম্বর লাগে?
উত্তর: গড়ে ৫০% নম্বর পেতে হবে এবং কোনো বিষয়ে ৩০%-এর কম পাওয়া যাবে না।
প্রশ্ন ৬: BJS ঐচ্ছিক বিষয় কোনগুলো?
উত্তর: ঐচ্ছিক বিষয়-১ (শিশু আইন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, আইনগত সহায়তা, Special Powers Act, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন) অথবা ঐচ্ছিক বিষয়-২ (দুর্নীতি দমন সংক্রান্ত আইন, দ্রুত বিচার আইন, Negotiable Instruments Act, মানব পাচার আইন ২০২৬, সাইবার সুরক্ষা আইন ২০২৬)। যেকোনো একটি বেছে নিতে হয়।
প্রশ্ন ৭: প্রিলির নম্বর কি চূড়ান্ত ফলাফলে যোগ হয়?
উত্তর: না। চূড়ান্ত মেধাতালিকা হয় লিখিত (১০০০) ও মৌখিক (১০০) পরীক্ষার নম্বর মিলিয়ে।
প্রশ্ন ৮: BJS লিখিত পরীক্ষা কি ইংরেজিতে দেওয়া যায়?
উত্তর: হ্যাঁ, প্রতিটি বিষয়ে বাংলা বা ইংরেজি যেকোনো একটি ভাষায় উত্তর লেখা যায়। তবে একই বিষয়ে দুই ভাষা মিশিয়ে লেখা যায় না।
প্রশ্ন ৯: BJS Syllabus PDF কোথায় পাব?
উত্তর: বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস কমিশনের ওয়েবসাইটের বিজেএস পরীক্ষার সিলেবাস পেইজে সংক্ষিপ্ত ও বিস্তারিত দুই ধরনের সিলেবাস PDF পাওয়া যায়।
মন্তব্য
মন্তব্য লোড হচ্ছে…
মন্তব্য করতে লগইন করুন
এক ক্লিকে Google বা Facebook দিয়ে সাইন ইন করুন; মন্তব্য, পার্সোনাল রিপোর্ট ও সব ফিচার আনলক হবে।